মহসিন রেজা :
নওগাঁর মান্দায় ১৪ টি ইউনিয়নে বিভিন্ন ফসলের মাঠে মাঠে হিমেল বাতাসে দোল খাচ্ছে হলুদ সরিষা ফুল। দূর থেকে সরিষার ক্ষেতগুলো দেখে মনে হয়, কে যেন হলুদ চাদর বিছিয়ে রেখেছে। সরিষা ফুলের হলুদ রাজ্যে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত যেমন মাঠ, তেমনি বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।
এদিকে, ফসলের মাঠে ফোটা ফলগুলো রোদ ঝলমল আলোয় প্রকৃতির মাঝে অপরূপ সৌন্দর্যের শোভা ছড়াচ্ছে। তেমনি সরিষার হলুদ রাজ্য দেখতে ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। একই সঙ্গে শীতের কুয়াশাকে উপেক্ষা করে চাষীরা সরিষা ক্ষেতের যত্ন নিচ্ছেন।মান্দা উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নে সরিষার আবাদ হয়েছে চোখে পড়ার মত আর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই কৃষকের ঘরে উঠবে সরিষা।
এলাকাজুড়ে মাঠের পর মাঠ ব্যাপক হারে সরিষার আবাদ করেছেন চাষীরা। আবাদের মাত্র ৭৫ দিনেই এই ফসল ঘরে তোলা যায়। তেমন সেচ দিতে হয় না। বীজ বপনের সময় মাটির নিচে সামান্য পরিমাণ রাসায়নিক সার দেওয়ার পরেই ভালো ফলন পেয়ে থাকেন চাষীরা। এক বিঘা জমি চাষ করতে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মত খরচ হয়। সরিষা বিক্রির পর সব খরচ বাদে ৭ থেকে ৯ হাজার টাকা লাভ হয়। ১১ নং কালিকাপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের আবদুল হোসেন আলী নামের এক চাষি বলেন, মানুষ এখন সরিষার তেল খাচ্ছে বেশি। সরিষা তেলের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার কারনে বাজারে সরিষার দাম এখন বেশ ভালো। বাজার পরিস্থিতি এমন থাকলে এবারও ভালো আয় হবে সরিষা বিক্রিতে।
মান্দা উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, কম খরচ, কম পরিশ্রম আর অল্প সময়ে সরিষা চাষ করা যায় বলে এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি ফসল। প্রতি বিঘা জমি থেকে চলতি মৌসুমে গড় ৫ থেকে ৬ মণ হারে সরিষার ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও সরিষা চাষ করলে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায় আর সরিষা তোলার পর বোরো ধান রোপণ করা সম্ভব। যার কারণে প্রতি বছরই সরিষার চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে
0 coment rios: