নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি :
নওগাঁর মান্দায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান পাইলট (৩১) এলাকাবাসির কাছে ছিলেন মূর্তিমান আতঙ্ক। একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের পর তিনি দীর্ঘদিন হাজতবাস করেন। জামিনে বেরিয়ে এসে হয়ে উঠেন আরো বেপরোয়া। কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে গড়ে তোলেন মাদকের সম্রাজ্য। অবশেষে শুক্রবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এতে এলাকাবাসীর মাঝে ফিরে এসেছে স্বস্তি।
গ্রেপ্তার মেহেদী হাসান পাইলট উপজেলার দেলুয়াবাড়ি বাজারের মুরগিপট্টি এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মজিদের ছেলে। হত্যা, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নিজস্ব ক্যাডার বাহিনীর মাধ্যমে এলাকায় কায়েম করেছিলেন ত্রাসের রাজত্ব।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেলুয়াবাড়ি বাজারের একাধিক বাসিন্দা জানান, গ্রেপ্তার পাইলট সবসময় রামদা নিয়ে ঘুরে বেড়ান। নেতৃত্ব দেন একটি কিশোর গ্যাংয়ের। এই কিশোর গ্যাংদের সদস্যদের মাধ্যমে মাদকের জাল দেলুয়াবাড়ি বাজারসহ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে দেন। একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তিনি এসব অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন। পাইলটের মাদক সম্রাজ্যের সোর্স হিসেবে কাজ করেন কুসুম্বা ইউনিয়নের একজন গ্রাম পুলিশ।
মান্দা থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ২০২২ সালে ২৫ আগস্ট সন্ধ্যায় দেলুয়াবাড়ি বাজারের মুরগিপট্টি এলাকায় আতিকুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন পাইলট ও তার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। এ মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায়। দীর্ঘদিন তিনি জেলহাজতে ছিলেন। বর্তমানে জামিনে আছেন।
পাইলটকে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, গ্রেপ্তার পাইলট একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মান্দা থানায় মাদক, হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ ৮টি মামলা রয়েছে।
ডিবির ওসি আরও বলেন, শুক্রবার রাতে দেলুয়াবাড়ি বাজারের মুরগিপট্টি এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাইলটকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয় ২০ গ্রাম হেরোইন। ঘটনায় পাইলটের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় মাদকদ্রব্য আইনে মামলা করা হয়েছে।
0 coment rios: