নওগাঁ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নওগাঁ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ২১ মার্চ, ২০২৫

মান্দায় জাতীয়তাবাদী যুবদলের দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

মান্দায় জাতীয়তাবাদী যুবদলের দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

 


মহসিন রেজা 

নওগাঁর মান্দায় জাতীয়তাবাদী যুবদল ১৪ নং বিষ্ণুপুর  ইউনিয়নের উদ্যোগে দাসপাড়া কলেজ  মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।


উক্ত ইফতার মাহফিলে ১৪ নাম্বার বিষ্ণুপুর  ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মোঃ আফতাব উদ্দিন এর  সভাপতিত্বে ও   জালাল উদ্দিন  এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মকলেছুর রহমান মকে।

প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত  ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ডাঃ ইকরামুল বারী টিপু।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুগ্ন আহবায়ক সাদেকুল ইসলাম, ওয়ার্ড সভাপতি যুবদলের আবুল কালাম আজাদ, যুবদলের ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ, আব্দুল্লাহিল কাফি  সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ,তরিকুল ইসলাম,  সহ মান্দা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মান্দায় ভিজিএফের চালের বস্তায় শেখ হাসিনার স্লোগান; স্থানীয়দের ক্ষোভ

মান্দায় ভিজিএফের চালের বস্তায় শেখ হাসিনার স্লোগান; স্থানীয়দের ক্ষোভ

 


উৎপল কুমার,মান্দা , নওগাঁ 

নওগাঁর মান্দায় 'শেখ হাসিনার বাংলাদেশ-ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ' লেখা চালের বস্তা বিতরণ করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে। আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে উপজেলার অসহায় ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে বিনামূল্যে ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) চাল বিতরণের বস্তায় শেখ হাসিনা নামের ওই স্লোগানটি দেখা যায়।


অভিযোগ উঠেছে খাদ্য কর্মকর্তার খামখেয়ালি দায়সারা মনোভাবের কারণে এরকম একটা বিতর্কিত কাজ করা হয়েছে। তাই এমন কর্মকান্ডর জন্য স্থানীয়রা দাবি তুলেছেন খাদ্য পরিদর্শক এমরানের  বিচার হওয়া উচিত।


অসহায় ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে বিনামূল্যে ১০ কেজি ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) চাল বিতরণের জন্য খাদ্য গুদাম থেকে স্ব স্ব ইউনিয়ন পরিষদ গুলোতে পাঠানো হয়। প্রায় সবগুলো চালের বস্তার ওপরেই চোখে পড়ছে বিতর্কিত হাসিনা নামের সেই স্লোগান। এ নিয়ে পরিষদে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। ছড়িয়ে পড়ে উপজেলা থেকে জেলা শহরেও। 


সরেজমিনে গিয়ে (১৭, ১৮ মার্চ) দেখা যায়, উপজেলার প্রসাদপুরে ২হাজার ৬জন, বিষ্ণুপুরে এক হাজার ৮ শত ৫২ জন ও কাশোঁপাড়া ইউনিয়নে ২ হজার ৪৪ জন অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। কিন্তু খাদ্য গুদাম থেকে পাঠানো ৩০ কেজি ওজনের চালের বস্তায় ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ স্লোগান দেখা যায়। অবশ্য মাঝে মাঝে দু-একটি বস্তায় শেখ হাসিনার নাম কালো কালির স্প্রে দিয়ে দায়সারাভাবে ঢেকে দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করা হলেও তাতে ফল হয়নি। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে শেখ হাসিনা নামের সেই স্লোগান। এবং অধিকাংশ স্থানের বস্তায় লেখা বিদ্যমান ছিলো। 


জানা যায়, পটপরিবর্তনের পর বিতরণকৃত চালের বস্তায় লেখা 'শেখ হাসিনার বাংলাদেশ-ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ' এই স্লোগানটি সারাদেশে ব্যবহার না করা এবং কালো কালি দিয়ে মুছে ফেলার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দিয়েছেন খাদ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু পরিবর্তন বা কালো কালি ব্যবহার না করেই সেই বিতর্কিত লেখা চালের বস্তা পাঠানো হয়েছিল স্ব স্ব ইউনিয়ন পরিষদে। অবশ্য শেখ হাসিনা সরকারের সময় বিতরণকৃত সকল বস্তায় শেখ হাসিনার নামে স্লোগান লেখা ছিল। 


এদিকে মন্তব্য নেওয়ার জন্য দুই দিন ঘুরেও মন্তব্য দেননি খাদ্য কর্মকর্তা এমরান। উল্টো দাম্ভিকতা দেখিয়ে অজুহাত দেখালেন উর্দ্ধতন কর্মকর্তার অনুমতি লাগবে। তবে মৌখিক অনুমতি দিলেও হবেনা, তাকে দিতে হবে লিখিত অনুমতি সরেজমিনে গেলে এমনভাবেই বলেন তিনি। একসময় তিনি বলেন, আমার কোন বক্তব্য নেই, আপনারা যা পেয়েছেন সেটা লিখতে পারেন।


মান্দা উপজেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোছা. আসমা খাতুন  বলেন, এই ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফ এর চাল বিতরণ কর্মসূচি দেখতে এসেছিলাম। কিন্তু বস্তায় হাসিনার যে স্লোগান লেখা দেখা যাচ্ছে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটা কখনও মেনে নেওয়া যায় না। দেশ থেকে হাসিনা বিতাড়িত হলেও এখন পর্যন্ত তার প্রেতাত্মা ও দোসররা বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছা। 


প্রসাদপুর ইউনিয়নে দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার মো. নাজমুল হুদা  বলেন, আমি ইউএনও অফিসে এসেছি। বিষয়টি খাদ্য কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের নজরে এসেছে। এটি ভুল বোঝা বুঝির কারণ। বিষয়টি নিয়ে সমাধানের চেষ্টা চলছে।


প্রসাদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মতিন বলেন, আমি চালের বস্তায় স্লোগান সম্বলিত লেখাটি দেখতে পেয়ে হতভম্ব হয়েছি। এসব গাফিলতি স্বয়ং জেলা, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার। এছাড়া পিআইও'র পাশাপাশি ইউএনও কেউ এর দায়ভার এড়াতে পারেন না। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।


জানতে চাইলে মান্দা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম মুঠোফোনে  বলেন, এই বিষয়ে আমার কোনপ্রকার দায় নেই। আমার কাজ শুধু বরাদ্দের ডিও দেওয়া। আর খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা কিভাবে কোন বস্তায় চাল দিবেন সেটা তার ব্যাপার। 


এ বিষয়ে মান্দা প্রসাদপুর খাদ্য গুদাম ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অফিসে গিয়ে খাদ্য পরিদর্শক ইমরান আহম্মেদকে না পাওয়ায় মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রাস্তায় গাড়িতে আছি অফিসে গিয়ে কথা বলবো। পরে তিনি এসে সাক্ষাৎকার না দিয়ে উল্টো দাম্ভিকতা দেখিয়ে অজুহাত দেখান যে উর্দ্ধতন কর্মকর্তার অনুমতি লাগবে। এমন মন্তব্য করেন তিনি।


নওগাঁ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ফরহাদ খন্দকারের মুঠোফোনে (01717585175) গত দুই দিন থেকে ফোন দিয়েও তার মন্তব্য পাওয়া যায় নি। 


একইভাবে ফোন রিসিভ করেননি মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ আলম মিয়া।

বুধবার, ১৯ মার্চ, ২০২৫

বিতর্কিত রায়ের বিরুদ্ধে নওগাঁ পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

বিতর্কিত রায়ের বিরুদ্ধে নওগাঁ পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

 


 মহসিন রেজা 

 

হাইকোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায়ের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নওগাঁ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আজ বুধবার (১৯ মার্চ) সকাল ৯টায়  ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুক্তির মোড়ে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হাইকোর্টের রায়ের ফলে তাদের চাকরির সুযোগ সংকুচিত হয়ে যাবে। রায়ে বলা হয়েছে, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩০% পদ নন-টেকনিক্যাল বা অকারিগরি ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরদের জন্য সংরক্ষণ করা হবে এবং তাদের ‘জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর’ হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হবে। সাধারণত, এই পদ ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য নির্ধারিত ছিল। ফলে ভবিষ্যতে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের জন্য চাকরির শূন্যপদ ৩০% কমে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা বলেন, "আমরা চার বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করি। অথচ আমাদের জন্য নির্ধারিত পদ কমিয়ে নন-টেকনিক্যালদের পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য অন্যায় ও অবিচার।"

 

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের ফলে নওগাঁ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট চত্বরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তারা ঘোষণা দেন, অবিলম্বে এই রায় বাতিল করা না হলে কঠোর আন্দোলনে যাবেন। শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে মিড টার্ম পরীক্ষা ও নিয়মিত ক্লাস বর্জন করেছেন। তারা হুঁশিয়ারি দেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়া হবে।

 

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, "ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের চাকরির নিশ্চয়তা না থাকলে ভবিষ্যতে কারিগরি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ কমে যাবে। এতে দেশের শিল্পখাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 

শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান, নন-টেকনিক্যাল ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরদের অপসারণ করে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের জন্য পদ সংরক্ষিত রাখতে হবে। তাদের দাবি, হাতে-কলমে শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শুধুমাত্র ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নিয়োগ দেওয়া উচিত।

 

শিক্ষার্থীরা দ্রুত রায়ের পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে। পরিস্থিতি যাতে আরও জটিল না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মান্দায় জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও জাতীয়তাবাদী  সমবায় দলের  দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

মান্দায় জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও জাতীয়তাবাদী সমবায় দলের দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

 


মহসিন রেজা 

নওগাঁর মান্দায় জাতীয়তাবাদী  শ্রমিক দলের ও জাতীয়তাবাদী সমবায় দলের ৩ নং  পরানপুর  ইউনিয়নের উদ্যোগে শিশুইল হাই স্কুল  মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 বুধবার   বিকালে উপজেলার শিশইল হাই স্কুল  মাঠে  এ আলোচনাসভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরানপুর ইউনিয়নের শ্রমিক দলের -সভাপতি  আব্দুর সালাম এর  সভাপতিত্বে উক্ত দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মান্দা  উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা, ইকরামুল বারী টিপু, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন  জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বিদ্যুৎ, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, পরানপুর ইউনিয়নের শ্রমিক দলের  সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন,   আব্দুল মতিন, এমদাদুল হক আহ্বায়ক সমবায়দন, সিনিয়র যুগ্ন আহবায় আব্দুল কুদ্দুস,  সমবয় দলের সদস্য সচিব মাসুদ রানা, যুবনেতা আল মামুন  অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ, ২০২৫

নওগাঁর আত্রাইয়ে অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

নওগাঁর আত্রাইয়ে অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

 


নওগাঁ প্রতিনিধি :

নওগাঁর আত্রাইয়ে একটি অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে চিমনি গুঁড়িয়ে দেওয়াসহ সেগুলো বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন।


মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২:৩০ পর্যন্ত উপজেলার কালিকাপুরের বিষ্ণুপুর এলাকায় মেসার্স ও এসবি ব্রিকসে অভিযান চালানো হয়। এ নিয়ে গত কয়েকদিনে জেলার মোট ৮টি অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো।


উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন নওগাঁ জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুজ্জামান ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসফিকুর রহমান আবরার এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস, আনসারসসহ অন্যরা সার্বিক সহযোগিতায় ছিল।


জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাজমুল হোসাইন বলেন, মহামান্য হাইকোর্টের আদেশে পরিবেশ সুরক্ষায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মান্দায় জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও জাতীয়তাবাদী  সমবায় দলের  দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

মান্দায় জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও জাতীয়তাবাদী সমবায় দলের দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

 


মহসিন রেজা 

নওগাঁর মান্দায় জাতীয়তাবাদী  শ্রমিক দলের ও জাতীয়তাবাদী সমবায় দলের ১০ নং  নুরুল্যাবাদ ইউনিয়নের উদ্যোগে চকভোলাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 সোমবার  বিকালে উপজেলার চকভোলাই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে  এ আলোচনাসভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয়তাবাদী সমবয় দলের নওগাঁ জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি  আব্দুল মতিন এর  সভাপতিত্বে উক্ত দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মান্দা  উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা, ইকরামুল বারী টিপু, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের মান্দা উপজেলা শাখার সভাপতি মোজাম্মেল হক মুকুল, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বিদ্যুৎ, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, জাতীয়তাবাদী সমবায় দলের ১০ নম্বর নুরুল্যাবাদ ইউনিয়নের আহবায়ক আবুল হোসেন, সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মান্দা উপজেলার আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য রইস উদ্দিন মোল্লা,   অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

যায়যায়দিনের ডিক্লারেশন বাতিল আদেশ প্রত্যাহোরের দাবীতে নওগাঁয় মানববন্ধন

যায়যায়দিনের ডিক্লারেশন বাতিল আদেশ প্রত্যাহোরের দাবীতে নওগাঁয় মানববন্ধন

 


মহসিন রেজা 

নওগাঁয় দেশের অন্যতম পত্রিকা দৈনিক যায়যায়দিনের প্রধান কার্যালয় অবৈধ দখল মুক্ত এবং ঠুনকো অভিযোগে ডিক্লারেশন বাতিলের আদেশ প্রত্যাহারের দাবীতে বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন ও স্মারক লিপি প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮মার্চ) সকালে জেলা শহর মুক্তির মোড়ে জেলায় কর্মরত সর্বস্তরের সাংবাদিকরা এ কর্মসূচি পালন করেন।


জেলায় কর্মরত প্রায় অর্ধ শতাধিক সাংবাদিকের অংশ গ্রহণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির স্টাফ রিপোর্টার সাদেকুল ইসলাম, বক্তব্য রাখেন  ইউনাইটেড প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাব্বির আহম্মেদ,সময় টিভির স্টাফ রিপোর্টার এম আর রকি,ডিবিসির নওগাঁ প্রতিনিধি একে সাজু,এশিয়ান টিভির নওগাঁ প্রতিনিধি রাশেদুজ্জামান, এটিএন নিউজের নওগাঁ প্রতিনিধি আব্দুর রাকিব।


মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন এখন টিভির নওগাঁ প্রতিনিধি আব্বাস আলী, দীপ্ত টিভির নওগাঁ প্রতিনিধি আব্দুর রউফ রিপন, দেশ রুপান্তরের প্রতিনিধি পারভেজ রহমান, যায়যায়দিনের আত্রাই প্রতিনিধি ওমর ফারুক, মান্দা প্রতিনিধি মাহাবুবুজ্জামান সেতু,সোনালী কন্ঠের স্টাফ রিপোর্টার সাইফুল ওয়াদুদ, বাংলাদেশ সমাচারের নওগাঁ প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান।


এসময় বক্তারা অবিলম্বে যায়যায়দিন পত্রিকার অবৈধ দখল মুক্ত এবং ঠুনকো অভিযোগে ডিক্লারেশন বাতিলের আদেশ প্রত্যাহোরের দাবী জানান। পরে যায়যায়দনের জেলা প্রতিনিধি রুহুল আমিন ও ইউনাইটেড প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাব্বির আহম্মেদ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে তথ্য উপদেষ্টা বরাবর একটি স্মারক লিপি জমা দেন।

সোমবার, ১৭ মার্চ, ২০২৫

মান্দায় গভীর নলকূপ অকেজো, হুমকিতে ২৫০ বিঘা জমির বোরো আবাদ

মান্দায় গভীর নলকূপ অকেজো, হুমকিতে ২৫০ বিঘা জমির বোরো আবাদ

 


মহসিন রেজা 

নওগাঁর মান্দায় বোরিং সমস্যার কারণে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) একটি গভীর নলকূপ অনেকটাই অকেজো হয়ে পড়েছে। পরিমাণমত পানি উত্তোলন না হওয়ায় সেচকাজ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। গত ২০ দিন ধরে এ অবস্থা চলছে উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের পিড়াকৈর গ্রামের একটি মাঠে।

সেচকাজ বন্ধ থাকায় এরই মধ্যে অধিকাংশ জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। এ অবস্থায় চরম হুমকির মুখে পড়েছে ওই মাঠের অন্তত ২৫০ বিঘা জমির বোরো আবাদ।

গভীর নলকূপের অপারেটর শাহিনুর ইসলাম বলেন, কয়েক বছর ধরে গভীর নলকূপটিতে ঠিকমত পানি উঠছে না। বোরিং পাইপের নিচের কিছু অংশ ছুটে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি বিএমডিএ কর্তৃপক্ষকে জানালে দফায় দফায় শক্তি কমিয়ে বৈদ্যুতিক মোটর সরবরাহ করছে। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হচ্ছে না। এ অবস্থায় সঠিকভাবে সেচ দিতে না পারায় ধানের জমি ফেটে যাচ্ছে।

অপারেটর শাহিনুর ইসলাম আরও বলেন, গত বৃহস্পতিবার রি-বোরিং এর জন্য বিএমডিএ অফিসে ১ লাখ জমা দেওয়া হয়েছে। বারবার মোটর পরিবর্তন না করে সঠিক সময়ে রিং-বোরিং করা হলে মাঠের এ অবস্থা হতো না।

মাঠের কৃষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, পিড়াকৈর মাঠের গভীর নলকূপ দিয়ে অন্তত ২৫০ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়। এবার মাঠে সরিষার আবাদ থাকায় দেরিতে রোপণ কাজ শেষ হয়েছে। এরপর হঠাৎ করেই নলকূপ দিয়ে পানি উঠা বন্ধ হয়ে যায়। সময়মতো সেচ দিতে না পারায় ধানের জমি ফেটে গেছে।

একই মাঠের কৃষক রতন চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, ‘মাঠে আমি সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করেছি। ধান লাগানোর পর থেকেই পানির সমস্য দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় মাঠের পাশের একটি পুকুর থেকে শ্যালোমেশিনে পানি তুলে খেত বাঁচানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। শুধু শুধু খরচ বেড়েছে। পানির অভাবে ফসল ভালো না হলে চরম ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’

এ প্রসঙ্গে বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী এসএম মিজানুর রহমান বলেন, গভীর নলকূপটির বোরিং পাইপের নিচের একটা অংশ ছুটে যাওয়া পানি উত্তোলনের পরিমাণ কমে গেছে। মাঝে মাঝে তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় সেখানে রি-বোরিং এর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামি এক সপ্তাহের মধ্যে নলকূপটি চালুর করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।

রবিবার, ১৬ মার্চ, ২০২৫

 মান্দায়   জাকের পার্টির ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

মান্দায় জাকের পার্টির ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত


মহসিন রেজা 

নওগাঁর মান্দায়  জাকের পার্টির ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসন্ন মহাপবিত্র বিশ্ব ফাতেহা শরীফ উরসে খাস উপলক্ষে মান্দা  উপজেলা  জাকের পার্টি শনিবার বিকালে গনেশপুর ইউনিয়নে সতী হাট গরুহাটি চত্বরে  এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে।

 নুরুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেলোয়ার হোসেন ডবলু,প্রধান বক্তা ছিলেন, মুফতি মাওলানা ফজলার রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকের পার্টি রাজশাহী,  দ্বিতীয় বক্তা, মাওলানা সাদেকুল ইসলাম  বিশেষ অতিথি ছিলেন    মূল দল ও সকল সহযোগী সংগঠন ও বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ


বুধবার, ১২ মার্চ, ২০২৫

 মান্দায় যুবদলের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

মান্দায় যুবদলের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত



মহসিন রেজা 

নওগাঁর মান্দায় ১০ নং নূরুল্যবাদ ইউনিয়ন যুবদলের আয়োজনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের আশুরোগ মুক্তি কামনা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহত শহিদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।


বুধবার (১২মার্চ) বিকেল ৫ ঘটিকায় জোতবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে এই দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।


১০ নং নূরুল্যাবাদ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি সাদেকুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য এম এ আব্দুল  মতিন।


বিশেষ অতিথি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মকলেছুর রহমান মকে, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ডাঃ ইকরামুল বারী টিপু,৭নং প্রসাদ পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ, আব্দুল মতিন।


অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক নুরুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক আব্দুল জলিল, যুগ্ন আহবায়ক ডি এ আব্দুল মালেক, যুগ্ন আহবায়ক এনামুল হক মাষ্টার প্রমূখ।


এছাড়াও ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, কৃষক দল সহ বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন


 ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে নওগাঁয় ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা

ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে নওগাঁয় ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা



মহসিন রেজা 

আগামী শনিবার নওগাঁ জেলায় ৩ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস নিল ও লাল ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। বুধবার দুপুরে নওগাঁ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিক ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আমিনুল ইসলাম।


সিভিল সার্জন জানান,এ কার্যক্রমে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুর সংখ্যা ১ লক্ষ্য জন এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুর সংখ্যা ২ লক্ষ্য  জন মোট ৩ লাখ জনকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর জন্য স্থায়ী কেন্দ্র খোলা হবে ১১টি, অস্থায়ী কেন্দ্র ২৪৩০টি। 


স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বেচ্ছাসেবী সংখ্যা স্বাস্থ্য পরিদর্শক ১৭ জন,সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ৮১ জন,স্বাস্থ্য সহকারী ১৯৪ জন, এফ ডব্লিউ এ ৩৭১ জন। এফ পি আই ৯৪ জন,সি এইচ সিপি ২৯৩ জন, স্বেচ্ছাসেবী ৪৮৮২,(ভলান্টিয়ার) জন মোট  ৫৯৩২ জন কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্ব পালন করবে।


এসময় ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা: মুনির আলী আকন্দসহ জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


মান্দায় ২ মাদকসেবীর কারাদণ্ড

মান্দায় ২ মাদকসেবীর কারাদণ্ড

 


নওগাঁ টিভি ডেস্ক :

 মান্দায় আজ (১২ মার্চ ) বুধবার  ২ মাদকসেবীকে  গ্রেফতার করে মান্দা থানার পুলিশের  একটি বিশেষ টিম পরে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে জেল ও জরিমানা করেন ভ্রামম্যান আদালত।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হল উপজেলার গঙ্গারামপুর গ্রামের আমির উদ্দিন এর ছেলে জাকির হোসেন (১৯) ও পাইকপাড়া গ্রামের আব্দুর রসিদের  ছেলে আল আমিন সিফাত(২০)।


 পরে মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ আলম মিয়া উভয় আসামীদের  মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে  ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করেন।

মঙ্গলবার, ১১ মার্চ, ২০২৫

 মান্দায় সিপিবি নেতার ওপর হামলার বিচার দাবি

মান্দায় সিপিবি নেতার ওপর হামলার বিচার দাবি



মহসিন রেজা 

নওগাঁর মান্দায় সিপিবি নেতা কমরেড আব্দুল মালেকের ওপর হামলার বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সিপিবি মান্দা উপজেলা শাখা কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিপিবি মান্দা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কমরেড আব্দুস সোবহান প্রামাণিক।

বক্তব্যে আব্দুস সোবহান বলেন, প্রসাদপুর ইউনিয়নের খুদিয়াডাঙ্গা খালের পাড়ে দেলোয়ার হোসেন নামের এক ভূমিহীন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। সম্প্রতি সেখানে একটি ইটের প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করলে যুবদলনেতা সোহেল তানভীন ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা কাজে বাধা দিয়ে ভূমিহীন দেলোয়ার হোসেনের কাছে চাঁদা দাবি করে। এর প্রতিবাদ করায় কমরেড আব্দুল মালেকের সঙ্গে যুবদলনেতা সোহেল তানভীরের বিরোধ সৃষ্টি হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, এসব বিরোধের জের ধরে গত ৮ মার্চ রাত ১১টার দিকে কমরেড আব্দুল মালেককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে সোহেল তানভীরের নেতৃত্বে ৭-৮ জন যুবক হামলা চালিয়ে মারধর করে। এসময় আব্দুল মালেকের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

এরপর কমরেড মালেককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথেও বাধার সৃষ্টি করে হামলাকারীরা। সংবাদ পেয়ে ওই রাতেই মান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ঘটনায় সোহেল তানভীরসহ ৭জনের বিরুদ্ধে সোমবার রাতে মান্দা থানায় একটি অভিযোগ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সিপিবি মান্দা শাখার সদস্য কমরেড খোরশেদ আলম মণ্ডল, কমরেড আবুল কালাম আজাদ, কমরেড আলাউদ্দিন মণ্ডল, সিপিবিনেতা আবু বকর শেখ, মান্দা ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি সেকেন্দার আলীসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জানতে চাইলে হামলা, মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদলনেতা সোহেল তানভীর বলেন, কমিউনিস্ট পার্টির নেতা পরিচয়দানকারী আব্দুল মালেক কিশোর গ্যাংয়ের দলনেতা। তার নেতৃত্বে থাকা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এসবের প্রতিবাদ করায় আব্দুল মালেকের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়।  

এ প্রসঙ্গে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বলেন, পূর্ব বিরোধের জের ধরে উভয়পক্ষের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।


সোমবার, ১০ মার্চ, ২০২৫

মান্দায় ইকরা সুন্নাহ ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে ইফতার সামগ্রী বিতরণ

মান্দায় ইকরা সুন্নাহ ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে ইফতার সামগ্রী বিতরণ

 


মহসিন রেজা 

নওগাঁর মান্দায় ইকরা সুন্নাহ ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে গরিব,  অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ  করা হয়েছে ।  আজ সোমবার  সকালে  উপজেলার ১৪ নং বিষ্ণুপুর  ইউনিয়নের পন্ডিতপাড়ার সৌদি প্রবাসী আব্দুল মতিন এর সার্বিক সহযোগিতায়  এসব ইফতার সামগ্রী বিতরণ  করা হয়।

 উক্ত অনুষ্ঠানে আজিবর রহমান   এর সভাপতিত্বে,  প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, শাহ আলম মিয়া  ।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা  হিসেবে বক্তব্য রাখেন, চককামদেব বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের

প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ মৃধা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন,  

ফতেপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের

সাবেক প্রধান শিক্ষক  আলহাজ্ব এস এম লিয়াকত আলি, চককামদেব বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক

আফজাল হোসেন, চককামদেব

কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম

আফজাল হোসেন,মোশারফ হোসেন, একরামুল হক, সাংবাদিক মাহবুবুজ্জামান সেতু 

রুহুল আমিন,মহসিন আলী এবং সাফিউল ইসলাম রকি প্রমুখ।

রবিবার, ৯ মার্চ, ২০২৫

(স্কুলে গিয়ে গাঁজা সেবনের অভিযোগে) শিক্ষার্থীদের হাতে ধরা খেলেন দুই পুলিশ সদস্যসহ তিনজন; পাঠানো হয়েছে ডোপ টেস্টে

(স্কুলে গিয়ে গাঁজা সেবনের অভিযোগে) শিক্ষার্থীদের হাতে ধরা খেলেন দুই পুলিশ সদস্যসহ তিনজন; পাঠানো হয়েছে ডোপ টেস্টে




 নওগাঁ প্রতিনিধি:

নওগাঁ সরকারি (কৃষ্ণধন) কেডি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে দুই পুলিশ সদস্যসহ তিনজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে স্কুলের সীমানায় এসে ওই তিনজন গাঁজা সেবন করছিল। বিষয়টি দেখতে পেয়ে শিক্ষার্থীরা তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করলে এক পর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সার্চ করে একটি গাঁজার সিগারেট পাওয়া যায় বলে অভিযোগ করেন উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদেরকে নিয়ে এসে ডোপ টেস্টে পাঠিয়ে দেয়। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কেডি স্কুলের সীমানায় পরিত্যাক্ত ভবনের পাশে।


অভিযোগ ওঠাদের মধ্যে দুইজন পুলিশ সদস্য হলেন সুজন ও আলী আলম এবং অপরজন হলেন একজন সরকারি কর্মকর্তার ড্রাইভার কার্ত্তিক সরকার। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্তকারী অফিসার এস আই নুর নয়ন। তিনি সন্ধ্যা ৬টার দিকে মুঠোফোনে বলেন, তাদের ডোপটেস্টের রিপোর্ট এই মাত্র হাতে পেলাম। তিনজনেরই নেগেটিভ এসেছে। এখন বিষয়টি উর্দ্ধতন স্যারেরা দেখবেন।


এদিকে পুলিশ সদস্য শিক্ষার্থীদের হাতে গাঁজা সেবনকালে আটক বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে কয়েকটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এই প্রতিবেদকের হাতে আসা কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, পোশাক পড়া এক পুলিশকে তাদের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলতে শোনা যায়, রোজার দিন তারা এখানে এসে বিড়ি খাচ্ছিল। পোশাক ছাড়া আরেক পুলিশ সদস্য বলেন, একটা বিষয় নিয়ে এখানে এসে কথা বলছি। তবে তাদের এই যুক্তি মেনে নেননি শিক্ষার্থীরা।


অপরদিকে তাদের এমন কথা শুনে শিক্ষার্থীদের বলতে শোনা যায়, আপনাদের কাজ অফিস রুমে। আপনাদের স্কুলে ঢোকার কোনো বৈধতা আছে কিনা জানতে চাইলে তারা কোনো উত্তর দিতে পারেনি। তাই শিক্ষার্থীরা বলেন, আপনাদের স্কুলে ঢোকার বৈধতা নেই। এখানে ঠিকাদারী কাজ চলছে এই বাহানা দিলেও মানা যেত।


আরও বলতে শোনা যায়, গাঁজা খাচ্ছিল এমন ভিডিও আমাদের কাছে আছে। হাতে একটা সিগারেট সদৃশ বস্তু নিয়ে তাদেরকে বলতে শোনা যাচ্ছে এটা গাঁজার সিগারেট। অবৈধ প্রশাসন, মানি না মানবো না। পুলিশ কেন গাঁজা খায় “জবাব চাই, বিচার চাই।”


এমন সময় একজন চলে যেতে চাইলে শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। তবে তার মুখে মাক্স পড়া ছিল। তাই শিক্ষার্থীরা তাকে মাক্স খুলতে বলেন।


বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জানতে চাইলে নওগাঁ সদর হাসপাতালের আরএমও ডাক্তার আবু জার গাফ্ফার মুঠোফোনে বলেন, তিনজনকে ডোপটেস্টের জন্য আনা হয়েছিল। তাদের স্যাম্পল নেওয়া হয়েছে। প্রসেসিং চলছে। যেকোনো সময় রিপোর্ট জানা যাবে বলেও জানান তিনি।


নওগাঁ সরকারি কেডি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জাহেদ ফেরদৌস বলেন, আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ সদস্যসহ তিনজনকে শিক্ষার্থীরা গাঁজা সেবন করতে দেখতে পায়। বিষয়টি তাদেরকে বলতে গেলে তারা শিক্ষার্থীদের উপর চড়াও হয়। কিন্তু বেশি শিক্ষার্থী থাকায় তারা পারেনি। একসময় শিক্ষার্থীরা তাদেরকে সার্চ করলে তাদের পাশে গাঁজার সিগারেট পায়। খবর পেয়ে ডিবির একটি টিম এসে তাদেরকে নিয়ে যায়। এবং শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করবেন বলে আমাদেরকে জানান।


তিনি আরও বলেন, আমরা স্কুলকে মাদক ও ইভটিজিং মুক্ত ঘোষণা করেছি। স্কুল ছুটির পর বহিরাগতরা এসে এখানে প্রতিনিয়ত মাদক সেবন করে। বিষয়টি আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহীনিকে বলেছি।


নওগাঁ সরকারি কেডি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন,

ইতিপূর্বে পুলিশ প্রশাসনের কোনো সদস্য এই স্কুলে মাদক সেবন করে কিনা এটা আমার জানা নেই। আজ আমি জানতে পারি, ওই তিনজন নাকি গাঁজা সেবন করেছে, তাদের মধ্যে পুলিশ সদস্য ছিল। তাই তাদেরকে ছাত্ররা ধরে রেখেছে এবং পরবর্তীতে পুলিশ এসে তাদেরকে নিয়ে গেছে।


তিনি আরও বলেন, আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটা পবিত্র জায়গা। এখানে যদি কেউ নেশাদ্রব্য নিয়ে আসে বা সেবন করে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওসি এম এ মান্নান মুঠোফোনে বলেন, খবর পেয়ে কেডি স্কুল থেকে দুইজন পুলিশ সদস্যসহ তিনজনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদেরকে সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে সেখানে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ উপস্থিত ছিলেন। আমরা উনার সহায়ক হিসেবে কাজ করেছি।


নওগাঁ কেডি স্কুল থেকে দুই পুলিশ সদস্যকে নিয়ে আসার কথা স্বীকার করেছেন নওগাঁ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ নুরে আলম সিদ্দিকী। কেন নিয়ে আসা হয়েছে এমন প্রশ্নে তিনি মুঠোফোনে বলেন, সিগারেট অথবা নেশা জাতীয় কিছু খাচ্ছিল, সেই জন্য ডোপ টেস্টে পাঠানো হয়েছে। ডোপ টেস্টের পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।


ক্যাপশন: পোশাক ছাড়া কোমরে অস্ত্র ও পোশাকসহ দুইজন পুলিশ সদস্য। আরেকজন মাক্স পড়া অবস্থায় আছেন। এছাড়া শিক্ষার্থীরা হাতে গাঁজার সিগারেট দেখাচ্ছেন।


নওগাঁয় সাড়া ফেলেছে লাউয়ের মতো দেখতে নতুন জাতের ‘লাউ বেগুন’

নওগাঁয় সাড়া ফেলেছে লাউয়ের মতো দেখতে নতুন জাতের ‘লাউ বেগুন’

 


মহসিন রেজা 

 

নওগাঁ সদর উপজেলার বর্ষাইল ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী বৃষ্টি বানু নতুন জাতের ‘লাউ বেগুন’ চাষ করে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। দূর থেকে দেখলে এটি লাউয়ের মতো মনে হলেও, আসলে এটি উচ্চ ফলনশীল এক ধরনের বেগুন। আকারে বড় হওয়ায় ও প্রচলিত বেগুনের তুলনায় বেশি লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে এটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে।

 

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বারি-১২ জাতের এই ‘লাউ বেগুন’ নওগাঁয় চাষ শুরু হয়েছে। প্রতিটি বেগুনের ওজন ৫০০ গ্রাম থেকে শুরু করে দেড় কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রতিটি গাছে ৭ থেকে ৮ কেজি পর্যন্ত বেগুন ধরছে, যা প্রচলিত জাতের তুলনায় অনেক বেশি। তাছাড়া, এই বেগুনে রোগবালাই কম হওয়ায় এবং কম সেচেই ভালো ফলন হওয়ায় এটি কৃষকদের জন্য লাভজনক একটি ফসল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

চাঁদপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম শিক্ষাগত জীবনে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করলেও কৃষিকাজে তিনি বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছেন। প্রথমদিকে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেও তেমন সফল হতে পারেননি। পরে তিনি ও তার স্ত্রী বৃষ্টি বানু বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘মৌসুমী’-এর সদস্য হন এবং ২০২৪ সালে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহায়তায় ‘বারি-১২’ জাতের বেগুন চাষের প্রশিক্ষণ নেন।

 

প্রশিক্ষণ শেষে মৌসুমী সংস্থা থেকে ৬০০টি চারা সরবরাহ করা হয়। এরপর তারা নিজস্ব ১৫ শতক জমিতে ওই চারা রোপণ করেন। কয়েক মাসের মধ্যেই গাছে প্রচুর বেগুন ধরেছে, যা বাজারে এনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

 

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত সপ্তাহে নওগাঁ হাটে দেড় মন বেগুন বিক্রি করেছি। সাধারণ বেগুন যেখানে এখন ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা মণে বিক্রি হয়, সেখানে আমার এই বেগুন ১৬০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে। হাটে নিয়ে গেলে সবাই জানতে চাইছে, "এটি লাউ না বেগুন?" নিমিষেই সব বিক্রি হয়ে যায়। লাভও অন্য বেগুনের তুলনায় চারগুণ বেশি।’

 

তার স্ত্রী বৃষ্টি বানু বলেন, ‘প্রথমবার চাষ করেই এত ভালো ফলন পেয়েছি যে আমরা খুবই খুশি। মৌসুমী সংস্থার প্রতি কৃতজ্ঞ, তারা আমাদের চারা ও প্রশিক্ষণ দিয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই বেগুন চাষ করতে চাই।’

 

সরেজমিনে রফিকুল ইসলামের বেগুন ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, আশপাশের গ্রাম থেকে অনেক মানুষ এই ব্যতিক্রমী বেগুন দেখতে আসছেন। অনেকেই বলছেন, তারা এত বড় আকারের বেগুন আগে কখনো দেখেননি। স্থানীয় চাষি সবুজ হোসেন বলেন, ‘এত বড় বেগুন জীবনে দেখিনি। এক-দেড় কেজি ওজনের বেগুন বিশ্বাস করা কঠিন। আগামী বছর আমি নিজেও এই বেগুন চাষের পরিকল্পনা করছি।’

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, ‘উৎপাদন ও স্বাদের দিক থেকেও এটি ব্যতিক্রমী। এই বেগুন লেট উইন্টার সবজি হওয়ায় শীতের শেষের দিকে বাজারে আসে, তাই বেগুনের দাম তুলনামূলক বেশি থাকে। ফলে কৃষকরা এটি চাষে আরও উৎসাহিত হবেন।’

 

নতুন জাতের এই ‘লাউ বেগুন’ চাষের সাফল্য শুধু রফিকুল দম্পতির জন্য নয়, বরং পুরো নওগাঁ জেলার কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বীজ সংরক্ষণ ও উৎপাদন প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে এটি আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। ফলে কৃষকরা আরও লাভবান হবেন এবং দেশের বেগুন চাষে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।

শুক্রবার, ৭ মার্চ, ২০২৫

 রমজানের শুরুতেই নওগাঁয় তরমুজের সরবরাহ ভালো, দামও তুলনামূলক কম

রমজানের শুরুতেই নওগাঁয় তরমুজের সরবরাহ ভালো, দামও তুলনামূলক কম


মহসিন রেজা 

রমজান মাস শুরুর পর থেকেই নওগাঁর বাজারে তরমুজের সরবরাহ ভালো রয়েছে। জেলার বিভিন্ন বাজারে দেশি-বিদেশি নানা জাতের তরমুজ আসছে, যা বাজারকে করেছে সরগরম। ইফতারে অন্যতম জনপ্রিয় এই ফলের চাহিদা বেড়েছে, ফলে বাজারজুড়ে ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার নওগাঁয় তরমুজের দাম কিছুটা কম, যা ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খবর।

নওগাঁর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের রমজানে তরমুজের সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম তুলনামূলকভাবে কম। গত বছর যেখানে প্রতি কেজি তরমুজ ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে, সেখানে এবার তা ৪০-৫০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া পাইকারি বাজারেও প্রচুর তরমুজ সরবরাহ থাকায় খুচরা বাজারেও দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এক তরমুজ ব্যবসায়ী বলেন, "এবার আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে তরমুজ পাচ্ছি। পাইকারি বাজারেও ভালো সরবরাহ রয়েছে, ফলে দামও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ভালো থাকায় দাম স্থিতিশীল রয়েছে।"

নওগাঁসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চল, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, যশোর, রাজশাহী, ফরিদপুর, পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপক পরিমাণে তরমুজ আসছে এবং তরমুজ নওগাঁর বাজারে ব্যাপকভাবে পাওয়া যাচ্ছে। কৃষকরা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে। ফলে বাজারে কোনো ঘাটতি দেখা যাচ্ছে না।

নওগাঁয় তরমুজের দাম কম থাকায় ক্রেতারাও স্বস্তিতে আছেন। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোট ও মাঝারি আকারের তরমুজ বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে বড় আকারের তরমুজের চাহিদাও কম নয়। অনেকেই ইফতারের জন্য একাধিক তরমুজ কিনছেন।

একজন ক্রেতা বলেন, "প্রতিদিন ইফতারে তরমুজ রাখা হয়। এবার দাম তুলনামূলক কম থাকায় সহজেই কেনা যাচ্ছে। গতবারের তুলনায় দাম কম থাকায় আমরা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি।"

 নওগাঁর ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, রমজানের মাঝামাঝি সময়ে সরবরাহ আরও বাড়তে পারে। পাইকারি বাজারে তরমুজের দাম স্থিতিশীল থাকলে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়বে।

তরমুজ ব্যবসায়ীরা জানান, "রমজানের চাহিদার কথা মাথায় রেখে আমরা আগেভাগেই পর্যাপ্ত তরমুজ মজুদ করেছি। আশা করছি, দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকবে এবং ক্রেতারা সহজেই তরমুজ কিনতে পারবেন।"

রমজানের শুরু থেকেই নওগাঁয় তরমুজের বাজার চাঙা রয়েছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা ক্রেতাদের জন্য স্বস্তিদায়ক। ব্যবসায়ী ও কৃষকরা উভয়েই এবারের তরমুজ বাজার নিয়ে সন্তুষ্ট। তবে বাজার তদারকি নিশ্চিত করলে ভোক্তারা পুরো রমজানজুড়ে ন্যায্যমূল্যে তরমুজ কিনতে পারবেন।


 নওগাঁ ইউনাইটেড প্রেসক্লাবে সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন

নওগাঁ ইউনাইটেড প্রেসক্লাবে সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন



নওগাঁ জেলা   প্রতিনিধি 

নওগাঁ ইউনাইটেড প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আরমান হোসেন রুমনকে ক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।একই সঙ্গে তাঁদের সদস্যপদও বাতিল করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আজ শুক্রবার নওগাঁ ইউনাইটেড প্রেসক্লাবের এক নোটিশে বলা হয়, ক্লাবের নির্বাহী কমিটির দুইজন সদস্যরা সভাপতির কাছে প্রেসক্লাবে এসে তাঁদের অভিযোগ দেন। তাঁদের দাবির যৌক্তিকতা বিবেচনা করে নওগাঁ ইউনাইটেড প্রেসক্লাব ও সদস্যদের নিরাপত্তা এবং সাংবাদিক সমাজের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখার লক্ষ্যে এই একজনকে অব্যাহতি ও সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে।

অন্যদিকে ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও যায়যায় দিনের নওগাঁ প্রতিনিধি রুহুল আমিনকে সাধারণ সম্পাদক এবং দীর্ঘদিন দপ্তর পদ শূন্য থাকায় সাইফুল ওয়াদুদকে দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে ক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের সভাপতি সাব্বির আহম্মেদ


বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ, ২০২৫

 জনবল সংকটে ধুকছে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

জনবল সংকটে ধুকছে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স



মহসিন রেজা 

প্রায় ৫ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার ভরসাস্থল নওগাঁর মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা নিয়ে আসেন ৪০০ থেকে ৪৫০ জন রোগী। কিন্তু চিকিৎসক সংকটে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসাররাই এখন আগত রোগীদের একমাত্র ভরসা।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে যে ৪জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন তাদের দিয়ে কোনো রকমে চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে জরুরি ও অন্ত:বিভাগের কাজ। একই সঙ্গে রয়েছে চতুর্থ শ্রেণির জনবল সংকট। এ অবস্থায় আশানুরুপ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।

উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা গেছে, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত শনিবার (১মার্চ) থেকে আজ বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) পর্যন্ত বহির্বিভাগে ২৬৬০জন, জরুরি বিভাগে ৬৩৭জন ও অন্ত:বিভাগে ১৯৩জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। কিস্তু চিকিৎসক না থাকায় এত বিপুল পরিমাণ রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪জন মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও আবাসিক কর্মকর্তাসহ রয়েছেন মাত্র ৪জন। এর মধ্যে ৩জন চিকিৎসক দিয়ে পর্যায়ক্রমে জরুরি ও অন্ত:বিভাগের কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসক সংকটে ছোট ছোট সমস্যাতেও রোগীদের রেফার্ড করা হচ্ছে নওগাঁ কিংবা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

সূত্রটি আরও জানায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে আয়া, ওয়ার্ডবয় ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকট রয়েছে। আয়া ও ওয়ার্ডবয় ৫ পদের বিপরীতে রয়েছে ২জন এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ৫ পদের জায়গায় আছে মাত্র ১জন।  

আজ বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ঘুরে দেখা যায়, বহির্বিভাগে নারী, শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের রোগীদের দীর্ঘ লাইন। লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার পর ডাক্তার দেখাতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন অনেকে।

এদিন কশব ইউনিয়নের পলাশবাড়ি গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী শামীম হোসেন বলেন, ‘বুকের ব্যথার চিকিৎসা নিতে আমি ১৫ কিলোমিটার দুর থেকে হাসপাতালে এসেছি। কিন্তু এমবিবিএস পদের কোনো ডাক্তার পায়নি। অবশেষে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের কাছে চিকিৎসা নিয়ে ফিরে যাচ্ছি। ভাল একজন ডাক্তারকে দেখানোর আশা নিয়ে এতদুর থেকে এসেছিলাম। তা পুরন হয়নি, সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হলো।’

উপজেলার গোসাইপুর গ্রাম থেকে হার্ট, ডায়াবেটিস ও বুকের ব্যথার চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসেছিলেন রোগী রবিউল ইসলাম টিপু। তিনি বলেন, হাসপাতালে কোনো ডাক্তার নাই। কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারেরা দেখে একটা চিরকুটে কিকি লিখে দিল ভাল লাগেনি। তাই দুধের স্বাধ ঘোলে মিটিয়ে বাড়ি যাচ্ছি। আগামিতে রাজশাহী শহরে গিয়ে ভাল ডাক্তার দেখাব।

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগী সুনীল কুমার বলেন, এক সময় এ হাসপাতালে অনেক ডাক্তার থাকায় বৈকালিক চিকিৎসাসেবা চালু করা হয়েছিল। ভালমানের চিকিৎসা পাওয়ায় ওই সময় হাসপাতালে রোগীর লেগেই ছিল। এখন খুঁজেও ডাক্তার পাওয়া যায় না। এখন রোগীর চাপ বাড়লেও ডাক্তার না থাকায় সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এ উপজেলার মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের সামান্য দুরে হাসপাতালটির অবস্থান হওয়ায় এর গুরুত্ব অনেক বেশি। মহাসড়কে ছোট-বড় দুর্ঘটনায় দ্রুত চিকিৎসার জন্য আহতদের এ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় তাদের পাঠানো হয় নওগাঁ কিংবা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এতে পথেই অনেক সময় রোগী মৃত্যু ঘটে।  

এ প্রসঙ্গে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহা. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাসহ হাসপাতালে মাত্র ৪জন চিকিৎসক আছেন। এদের দিয়ে কোনোভাবে জরুরি ও অন্ত:বিভাগের কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরও সংকট রয়েছে। এসব কারণে রোগীরা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। আশা করছি খুব শিগগিরই এ সমস্যার উত্তোরন হবে।


বুধবার, ৫ মার্চ, ২০২৫

সংযোগ রাস্তা ছাড়াই দাঁড়িয়ে সাড়ে ৩ কোটির সেতু

সংযোগ রাস্তা ছাড়াই দাঁড়িয়ে সাড়ে ৩ কোটির সেতু

 


মহসিন রেজা 

বর্ষা মৌসুমে বিলে থই থই করে পানি। তখন পাড়ি দিতে হয় নৌকায়। এরপর পায়ে হেঁটে কাদাপানি মাড়িয়ে চলাচল কিছুদিন। আর খরা মৌসুমে বিলের মাঝখানে জেগে ওঠা ভাঙাচুরা রাস্তা। এভাবেই দুর্ভোগ সঙ্গে নিয়ে বছরের পর বছর ধরে চলাচল করছেন নওগাঁর মান্দা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের অন্তত ১৫ গ্রামের মানুষ। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও কাঙ্খিত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি প্রত্যন্ত এই জনপদে।

সরেজমিনে শংকরপুর গ্রামের বিলে গিয়ে দেখা যায়, বিলের ভেতর দিয়ে আধাভাঙা রাস্তায় কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ বাইসাইকেল, কেউবা মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল করছেন। অনেকে যাতায়াত করছেন চার্জারভ্যানে। যাতায়াতের সুবিধার্থে স্থানীয় লোকজন বিলের রাস্তায় মাটি কেটে কিছুটা উপযোগী করে তুলেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের অন্তত ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষ প্রতিদিন চলাচল করেন এই রাস্তা দিয়ে। দুর্ভোগ সঙ্গী করে যেতে হয় উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় চৌবাড়িয়া হাটে। এছাড়া নওগাঁর নিয়ামতপুর ও রাজশাহীর তানোর উপজেলার সঙ্গে স্বল্প সময় ও সহজে এ জনপদের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে বিলের ভেতরের এই রাস্তাটি।  

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিলের ভেতর দিয়ে টেকসই রাস্তার পাশাপাশি একটি সেতু নির্মাণের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এলজিইডি দপ্তর রাস্তা ছাড়াই খামখেয়ালিভাবে বিলের মাঝখানে সেতুটি নির্মাণ করে। রাস্তা না থাকায় জনগনের কোনো কাজেই আসছে না সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি।

উপজেলা এলজিইডি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২৪ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতুটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ৩৪ লাখ ৫২ হাজার ৭৪৬ টাকা। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু করে ইথেন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কয়েকদফা দর বাড়িয়ে কাজটি শেষ করা হয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে।

রুয়াই গ্রামের বাসিন্দা মোজাফফর হোসেন বলেন, শংকরপুর বিলের মাঝখানের এ রাস্তা দিয়ে তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের শংকরপুর, পলাশবাড়ি, জয়পুর, ভাতহন্ডা, জ্যোতিষমাইল, রুয়াইসহ ১৫ গ্রামের অন্তত ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষ প্রতিদিন চলাচল করেন। বছরের ছয় মাস ভাঙাচুরা রাস্তায় ভ্যান, সাইকেল কিংবা পায়ে হেঁটে চলাচল করা গেলেও অবশিষ্ট সময় নৌকা কিংবা কাদা-পানি ভেঙে যাতায়াত করেন এ অঞ্চলের বাসিন্দারা।

স্থানীয় শংকরপুর গ্রামের বাসিন্দা এনতাজ আলী প্রামাণিক বলেন, চৌবাড়িয়া এ অঞ্চলের একটি প্রসিদ্ধ হাট। ধান, গম, সরিষাসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বিক্রির জন্য এ হাটে নিয়ে যান কৃষকেরা। শত দুর্ভোগ সহ্য করে সপ্তাহের শুক্রবার গবাদিপশু বিক্রির জন্য নিয়ে যেতে হয় চৌবাড়িয়া হাটে।

পলাশবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা দিলিপ কুমার প্রামাণিক বলেন, বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যয় করে শংকরপুর বিলের মাঝখানে সেতু তৈরি করা হয়েছে। শুরুতে মনে হয়েছিল সেতুর পাশাপাশি রাস্তা নির্মাণ হবে। তাহলে আর দুর্ভোগ থাকবে না। এখন দেখছি ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে সেতুটি। রাস্তা না থাকায় কোনো কাজেই আসছে না এটি।

এ প্রসঙ্গে মান্দা উপজেলা প্রকৌশলী আবু সায়েদ বলেন, সেতুটির নির্মাণ শেষ হলেও পুরো কাজ এখনও শেষ হয়নি। সেতুর সংযোগ রাস্তা নির্মাণের জন্য মাটি সংগ্রহের কাজ চলছে। মাটি পেলেই রাস্তাটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হবে।